Breaking News

বিদ'আতের বেড়াজালে ইবাদাত

লিখেছেন : মাসুদা সুলতানা রুমী

ইবাদাত কি?
ইবাদাত শব্দের অর্থ দাসত্ব। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদাত করার জন্য। তিনি বলেন-
আমি জ্বিন ও মানুষজাতিকে আমর ইবাদাতের ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। (সুরা যারিয়াত : ৫৬)
অর্থাৎ ইবাদাতের জন্যই তিনি সৃষ্টি করেছেন। তাঁর এ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মানুষকে স্বরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই তিনি ক্রমান্বয়ে পৃথিবীতে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন।

নুহ (আ) নিজ জাতিকে উদ্দেশ্যে করে বলেছেন- ‌ হে আমার জাতি! আল্লাহর ইবাদাত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন ইলাহ নেই। (সুরা আরাফ : ৫৯)
শুধু নুহ (আ)-ই নন, আল্‌লাহর প্রেরিত প্রত্যেক নবীই তাঁর কওমকে এ দাওয়াত দিয়েছেন। কেউ দাওয়াত গ্রহণ করেছে, কেউ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লাহ তায়ালার ভাষায়-
হে মুহাম্মদ! তোমার পূর্বে আমি যেসব রাসূল দুনিয়াতে পাঠিয়েছি, তাদের প্রতি আমি এই ওহী নাযিল করেছিলাম যে, আমি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত করো। (সুরা আম্বিয়া : ২৫)

তোমরা তোমাদের রবে ইবাদাত করতে থাকো, যতক্ষণ না নিশ্চিত ব্যাপারটি (মৃত্যু) এসে যাবে। (হিজর : ৯৯)

আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারায় সমগ্র মানবজাতিকে ডেকে বলেছেন- হে মানবজাতি! তোমাদের রবের দাসত্ব করো। যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।

কুরআন মাজীদে আল্‌লাহ রাব্বুল আলামীন অসংখ্য বার ইবাদাতের কথা বলেছেন। রাসূল (স) বলেন, আল্লাহর প্রতি বান্দার হক হলো, তাঁর দাসত্ব করা।

আর এজন্যই নামাজের মধ্যে সূরা ফাতিহার মাধ্যমে আমরা তোমারই দাসত্ব করি এবং তোমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি কথাটি বারবার উচ্চারণ করিয়ে মন-মস্তিস্কে গেঁথে দিতে চেয়েছেন আল্‌লাহ তায়ালা।

--

ইবাদাত না করার পরিণতি

ইবাদাত না করার কঠিন পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন, 'যারা আমার ইবাদাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং হঠকারিতায় নিমজ্জিত হয়, তারা অবশ্যই বড় লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।' (সুরা মুমিন : ৬০)

অতএব, যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলা মানুষ সৃষ্টি করলেন, যে কাজ না করলে নিশ্চিত জাহান্নাম সেই ইবাদাত কিভাবে করবো তা আমাদের সঠিক ভাবে বুঝতে হবে। আর এই বোঝানোর দায়িত্ব দিয়েই মহান আল্লাহ তাআলা নবী-রাসুলদেরকে পাটিয়েছেন।

ইবাদাতের সহজ সংঙ্গা
রাসূল (স) যে কাজ যেভাবে করছেন, করতে বলেছেন, করতে শিখিয়েছেন সেই কাজ সেভাবে করার নাম ইবাদাত। তিনি যেভাবে যা শিখিয়েছেন তার চেয়ে কমও করা যাবেনা, বেশিও করা যাবেনা।

হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, একবার এক নওমুসলিম বেদুঈন রাসূল (স)- এর নিকট থেকে আল্লাহ, আখিরাত, রিসালাত, নামাজ, রোযা, হজ্জ, যাকাত সম্পর্কে জানার পর বলল, যিনি আপনাকে সত্য দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন সেই সত্তার শপথ করে বলছি, আমি উক্ত নির্দেশগুলোর সাথে কোনো কিছু বৃদ্ধি করবো না এবং একটুও কম করবোনা। তখন রাসূল (স) যেভাবে যা করতে বলেছেন তা-ই করতে হবে। তার চেয়ে বেশিও না কমও না।



--
বিদ'আত কী?
বিদ'আত শব্দের অর্থ নব উদ্ভাবিত জিনিস। রাসূল (স) বলেন, যে ব্যাক্তি এমন কোনো কাজ করে, যার উপর আমার কোন আদেশ বা সমর্থন নেই তাই বিদ'আত। (বুখারী ও মুসলিম)

রাসূল (স)- এর দিকনির্দেশনার মধ্যে নেই অর্থাৎ যে কাজ রাসূলুল্লাহ (স) করতে বলেননি, নিজে করেননি, তাঁর সাহাবায়ে কেরামও করেননি এমন কোনো কাজ সওয়াবের আশায় করার নাম বিদ'আত।

তিনি আরো বলেন, 'আল্লাহ বিদ'আতের কোন আমল কবুল করেন না।' (মুসলিম)

ইবরাহীম ইবনে মায়সারা (রা) বলেন, রাসূল (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো বিদ'আতিকে সম্মান করল, সে নিশ্চয়ই ইসলামকে ধ্বংস করার কাজে সাহায্য করলো।

শিরক ও বিদ'আত প্রায় একই ধরনের অপরাধ। তাওহীদের বিপরীত যেমন শিরক তেমনি সুন্নাহর বিপরীত হলো বিদ'আত। আর এই বিদ'আতি কর্মকান্ডে ভরে গেছে আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ। বিদ'আতের চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে ইবাদাত।

আমাদের সমাজে প্রচলিত কতিপয় বিদ'আত
১. কুলখানি বা চল্লিশা
২. মিলাদ
৩. শবিনা খতম বা কুরআনখানি
৪. শবে বরাত
৫. দোআ ইউনুস খতম
৬. খতমে তাহলীল
৭. বিভিন্ন ধরনের আমল
৮. সালাতুত তাসবীহ
৯. বিভিন্ন ধরনের দরুদ
১০. বিভিন্ন ধরনের নামায।
ইনশাআল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে আলোচনা করবো।


--
কুলখানি বা চল্লিশা

কুলখানি বা চল্লিশা এমন এক কাজ, যা শুধু বিদ'আতই নয়; অন্য ধর্মের অনুকরণও। অথচ রাসূল (স) বলেছেন, 'যারা অমুসলিম জাতির অনুসরণ করে তারা ওদের দলভুক্ত।' (আবু দাঊদ)

আমাদের দেশে প্রায় সব এলাকাতেই এ অনুষ্ঠান বিভিন্ন নামে প্রচলিত আছে। এর প্রকৃত নাম শ্রাদ্ধ, যা হিন্দুদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান। হিন্দুরা জল বলে আর আমরা বলি পানি। এ যেন ঠিক তেমনি হিন্দুরা বলে শ্রাদ্ধ আর আমরা বলি কুলখানি বা চল্লিশা যিয়াফত। যে নামেই ডাকি না কেন জিনিস একই। এ অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হিন্দুদের। এর সাথে ইসলামের সামান্যতম সম্পর্ক নেই। পুণ্যের তো প্রশ্নই আসেনা।

রাসূল (স)- এর কাছে এক ব্যাক্তি এসে বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা মারা গেছেন। এখন তার জন্য আমি কি করবো?' রাসূল (স) বললেন, 'তোমার মায়ের জন্য দোআ করো এবং তার আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভালো ব্যবহার করো। তাঁর ওয়াদাকৃত অসিয়ত থাকলে পূরণ করো, দেনা থাকলে তা পরিশোধ করো।

হযরত ওমর (রা)- এর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে ওমর দূরের এক বেদুইন পল্লীতে গেলেন বেশ কিছু উপঢৌকন নিয়ে এক বেদুইন সর্দারের কাছে। সর্দার চিনতে না পারলে বললেন-, 'কে বাবা তুমি?'
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (র)সালাম দিয়ে বললেন, 'আমি হযরত ওমর (র) এর পুত্র। ছোট বেলায় বাবার সাথে আপনার এখানে এসেছি। বাবা মারা গেছেন। আপনি আমার বাবার বন্ধু ছিলেন। বাবার হক আদায় করার জন্য আপনার কাছে এসেছি। বৃদ্ধ সর্দার আবদুল্লাহকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন এবং হযরত ওমর (র)- এর জন্য দোআ করলেন।

শুধু বাবা-মা নন, যেকোনো স্বজন মারা গেলে তার জন্যই এ আমল করা রাসূল (স)- এর শিক্ষা। তিনি নিজেও স্ত্রী খাদীজা (র)- এর মৃত্যুর পর তাঁর জন্য চোখের পানি ফেলে দোআ করতেন আর খাদীজা (র)-এর আত্মীয়-স্বজন এমনকি বান্ধবীদেরও খোঁজ খবর নিতেন, তাঁদের কাছে উপঢৌকন পাঠাতেন।

অথচ এই আমল কি আমরা করি? বরং অনেক ক্ষেত্রে মা-বাবা মারা গেলে খালা-মামা ও চাচা-ফুফুদের সাথে আর সম্পর্কই থাকেনা। স্ত্রী মারা গেলে শ্বশুর বাড়ির সাথে সব সম্পর্কই যেন চুকে যায়।

রাসূল (স) যা করতে বলেছেন তা না করে ভিন্ন ধর্মের অনুকরণে এই যে কুলখানি বা চল্লিশার নামে আমরা শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান করছি, এতে কোন অবস্থাতেই সওয়াবের হতে পারে না। এ অনুষ্ঠানে যেসব কাজ করা হয় তার সবক'টিই বিদ'আত। যেমন-

১. নির্দিষ্ট দিনে আনন্দভোজের মতো করে মানুষকে খাওয়ানো, যার মধ্যে বেপর্দার ছড়াছড়ি।
২. হাফেজকে টাকা দিয়ে কুরআন পড়ানো।
৩. মিলাদ পড়া ছাড়াও যেসব কাজ করা হয় এর প্রত্যেকটিই বিদ'আত।



--
 মিলাদ পড়া
আমাদের সমাজের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানই হলো মিলাদ। মিলাদের দাওয়াত দিলে কেউ অনুপস্থিত থাকে না। কেউ মারা গেলে মিলাদ, কারো জন্মের পরে মিলাদ, চাকরি ফেলে মিলাদ, নতুন বাড়ি করলে মিলাদ, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করলে মিলাদ, আরোগ্য পাওয়ার পরে মিলাদ, পরীক্ষার আগে মিলাদ, ভালো রেজাল্ট করলে মিলাদ, মামলায় পড়লে মিলাদ, মামলায় জিতলে মিলাদ এমনকি সিনেমা হল উদ্বোধনেও মিলাদ পড়া হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, মিলাদই মুসলমানের একমাত্র ইবাদাত।

এছাড়া বিভিন্ন দিবস উপলক্ষেও মিলাদ পড়া হয়, বিশেষ করে মৃত্যুবার্ষিকীতে। এ আমলটি সম্পূর্ণভাবে বিদ'আত। এ কাজ রাসূল (স) করেননি, সাহাবায়ে কেরাম করেননি, পরবর্তী মুসলমানরাও করেননি, মক্কা-মদীনার কোনো মুসলমান এখনো করেন না অথচ আমরা কত যে মহব্বতের সাথে সওয়াবের আশা করে নিষ্ঠার সাথে এ বিদ'আত আমলটি করি। একটি বিষয় লক্ষ্য করলেই দেখবেন, যারা মিলাদ অনুষ্ঠানে আগ্রহের সাথে অংশগ্রহণ করে তাদের অধিকাংশ নামাজের গুরুত্ব খুব কমই দেয়। মদীনার প্রখ্যাত ইমাম মালেক (র) বলেন, 'যে ব্যক্তি ইসলামের কোনো বিদ'আত প্রচলন করে একে নেকীর কাজ বলে মনে করে সে নিশ্চয়ই ধারণা করে নিয়েছে, মুহাম্মদ (স) রিসালাত ও নবুওয়াতের দায়িত্ব পালনের আমানতে খিয়ানত করেছেন- যেহেতু তিনি এ নেকীর কাজ সম্পর্কে বলে যেতে পারেননি।

রাসূল (স)- এর প্রতি মহব্বতের নামে তাঁর শিক্ষার বিপরীত কাজ কখনো ইবাদাত বা নেকীর কাজ নয়। আর এতে মহব্বতও হয়না। রাসূল (স)- কে ভালোবাসা মানে তিনি যা করতে বলেছেন তা-ই করা; এর চেয়ে বেশিও না কমও না।


--
আজকের বিষয় : "শবিনা খতম বা কুরআনখানি"

সওয়াবের উদ্দেশ্যে হাফেজকে টাকা দিয়ে মাইকে কুরআন পড়ানোকে বলে শবিনা খতম। এ যে কত বড় একটা অন্যায় কাজ তা যদি কেউ বুঝত। আল কু্রআন কী? তা কিভাবে পড়তে হবে? এবং কিভাবে আল কুরআন থেকে ফায়দা হাসিল করতে হবে? তা জানা থাকলে সওয়াবের আশায় এভাবে কেউ টাকা দিয়ে কুরআন খতম করাত না।

রাসূল (স) বলেছেন, 'অন্তরের কালিমা দূর করার জন্য অধিক পরিমাণে কুরআন পড়ো।'
অন্যত্র তিনি বলেছেন, 'আল কুরআনের একটি হরফের জন্য কুরআন তিলাওয়াতকারীর আমলনামায় দশটি নেকী লেখা হয়।'
কিভাবে পড়তে হবে সে দিক নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেছেন, 'আল কুরআনে পাঁচ ধরনের আয়াত আছে। হালাল-হারাম, মুহকাম, মুতাশাবিহ ও আমছাল।
# তোমরা হালালকে হালাল জেনে গ্রহণ করবে।
# হারামকে পরিত্যাগ করবে।
# মুহকাম অনুযায়ী আমল করবে।
# মুতাশাবিহার উপর ঈমান আনবে এবং
# আমসাল থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে।'

সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হালাল এবং হারাম আমরা বুঝতে পারছি, কিন্তু মুহকাম, মুতাশাবিহ ও আমছাল কাকে বলে? রাসূল (স) বললেন, মুহকাম ঐসব আয়াত, যা আদেশ-নিষেধ সম্বলিত ও সুস্পষ্ট। মুতাশাবিহ ঐসব আয়াত যা অস্পষ্ট, রুপক এবং যা আমাদের বুদ্ধি ধারণ করতে পারে না। যেমন আরশ কুরসী, জান্নাত, জাহান্নাম, মৃত্যুপরবর্তী জীবন ইত্যাদী। এসব বিষয়ের উপর ঈমান আনতে বলা হয়েছে।

আর আমসাল ঐসব আয়াত, যাতে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন- 'আদ ও ছামূদ জাতির পরিণতি, নূহ (আ)- এর আমলে নমরুদের এবং মূসা (আ)- এর আমলে ফেরাউনের পরিণতি, নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও লূত (আ)- এর স্ত্রীর পরিণতি। মুশরিক ফিরাউনের স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও আছিয়ার দীনদারি; ইবরাহীম (আ)- এর ত্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে কুরআন মাজীদে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

এসব থেকে যাতে আমরা উপদেশ নিতে পারি, আল কুরআনকে সেভাবে বিশ্লেষণ করে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসূল (স)। কিছু না বুঝে ঝরঝর পড়ে যাওয়াতে কোনো লাভ নেই বরং গুনাহ হওয়ারই সমূহ সম্ভাবনা। কারণ, কেউ কু্রআন তিলাওয়াত করলে সবাইকে তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে বলা হয়েছে। কিন্তু শবিনা খতম পড়ানের সময় চার-পাঁচজন দিন, দিন-রাত, চব্বিশ ঘন্টা এক নাগাড়ে কু্রআন তিলাওয়াত করা হয়। তাও মাইক দিয়ে জোরে জোরে। তখন কেউ হয়তো বাথরুমে থাকে, কেউ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকে। কেউ রোগী, কেউ শুনতে না চাইলেও জোর করে তাকে শুনানো হচ্ছে। এতে কোন অবস্থাতেই সাওয়াব হতে পারে না।
আবার অনেক জায়গায় অনেকে একত্রিত হয়ে ত্রিশ পারা কুরআন শরীফ ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে পড়ে খতম করে দেয়। এই পদ্ধতিটিও বিদ'আত। কারণ, এভাবে কু্রআন তিলাওয়াতের শিক্ষা রাসূল (স) দেননি এবং সওয়াবের আশায় সাহাবায়ে কেরাম কেউ করেছেন বলেও কোনো দলিল-প্রমাণ পাওয়া যায় না।


--
আজকের বিষয় : দু'আ ইউনুস খতম

'লা ইলাহা ইল্লা আন্তা ইন্নী কুন্তু মিনাযযালিমিন।'
ইউনুস (আ) মাছের পেটে বন্দী হয়ে এই দোআ পড়েছেন বলে এই দোআকে ইউনুস বলে। আমরাও বিপদে-মুসিবতে এই দোআ পড়বো। দোআ পড়ার সময় এই অনুভূতি নিয়ে পড়তে হবে যে, আমার দোষেই আমি বিপদে পড়েছি। আমি নিজের উপর যুলুম করেছি। সেই পবিত্রতম সত্তা আল্লাহ ছাড়া উদ্ধারের কেউ নেই। কিন্তু কেউ বিপদে-মুসিবতে পড়লে বিশেষ করে দীর্ঘ দিন অসুখে ভুগলে দলবদ্ধভাবে দোআ ইউনুস পড়ার শিক্ষা রাসূল (স) দেননি। বলা হয়ে থাকে, দোআ ইউনুস পড়লে রোগীর ভাগ্যে যদি মৃত্যু লেখা না থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে। আর যদি মৃত্যুই তার ভাগ্যে লেখা না থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি মারা যাবে। এ ধরনের কথা কুরআন-হাদীসের কোথাও পাওয়া যাবে না। সওয়াবের আশায়, রোগমুক্তির আশায়, বিপদ মুক্তির আশায় এই সম্মিলিত দোআ পড়া, যাকে দোআ ইউনুস খতম বলা হয় তা সম্পূর্ণভাবে বিদ'আত। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সবাই মিলে দ্রুতগতিতে যেভাবে দোআটি পড়া হয় তাতে না দোআটি শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করে পড়া হয় না, কেউ অর্থের দিকে খেয়াল রাখে। এ যেন কোনো মন্ত্র। বুঝি না বুঝি; মানি না মানি; উচ্চারণ করলেই মুক্তি। এই অনুভূতিটাই বিদ'আত।
 

--

আজকের বিষয়- "শবে বরাত"।

শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত সত্যি একটি বিতর্কিত ইবাদাতের রাত। এই রাত ইবাদাতের বিশেষ কোনো রাত কি না তা নিয়ে বিস্তর মতপার্থক্য রয়েছে। কুরআনে এ রাত সম্পর্কে কোন কথাই নেই। অনেকে সূরা দুখানের নিম্মোক্ত আয়াতটিকে লাইলাতুল বারাআত সম্পর্কিত দাবি করেন :
'হা-মীম। স্পষ্ট কিতাবের শপথ! নিশ্চয়ই আমি তা বরকতময় রাতে নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমি মানুষদের সতর্ককারী। ঐ রাতে প্রতিটি হিকমতপূর্ণ বিষয় আমার তরফ খেকে জারি করা হয়।'

যদি উল্লেখিত আয়াতের 'লাইলাতুম মুবারাকাহ' শব্দটি দুটিকে বরাতের রাত ধরা হয় তবে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায় এই যে, আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদ শাবান মাসের ১৫ তারিখে নাযিল করেছেন; অথচ কুরআনেই স্পষ্ট বলা হয়েছে-
১. 'আমি কুরআনকে কদরের রাতে নাযিল করেছি।' (সূরা কদর : ১)
২. 'রমজান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে।' (সূরা বাকারা : ১৮৫)

অতএব, উপরিউক্ত ধারণা একেবারেই ভুল। এবার হাদীস দিয়ে একটু যাচাই করে দেখা দরকার, এ রাতে বিশেষ ইবাদাতের প্রয়োজনীয়তা কতখানি?

১. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী করীম (স)-কে বিছানায় পেলাম না, তাই আমি তাঁর তালাশে বের হলাম। অতঃপর আমি বাকী' নামাক কবরস্থানে তাকে আকাশের দিকে মাথা ওঠানো অবস্থায় দেখতে পেলাম। তখন তিনি বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি ধারণা করছ যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তোমার উপর জুলুম করেছেন? আয়েশা (রা) বললেন, আমি তদ্রুপ ধারণা করিনি। তবে আমি ভেবেছিলাম আপনি আপনার অপর কোন স্ত্রীর কাছে গেছেন। তখন নবী (স) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতে প্রথম আকাশে অবতীর্ণ হন। আতঃপর তিনি কালব গোত্রের বকরিগুলোর পশম সমূহের চেয়েও বেশি লোকের পাপ ক্ষমা করেন।' (ইবনে মাজাহ, তিরমিযী, মিশকাত)

২. অন্য এক হাদীসে এসেছেন, 'আয়েশা (রা) বলেন, নবী করিম (স) জান্নাতুল বাকী' নামক কবরস্থানে সিজদারত ছিলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় কাটান। আমি ধারণা করলাম, হয়তো তাঁর জীবন চলে গেছে। এরপর তিনি সালাম ফিরিয়ে আমার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। (মিশকাত তৃতীয় খণ্ড)

৩. অপর হাদীসে এসেছে, 'আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমার কাছে এসে তাঁর গায়ের কাপড় খুলে ফেললেন। এরপর তিনি না ঘুমিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। অতঃপর কাপড় আবার পরিধান করলেন। আমি ধারণা করলামক যে, তিনি তাঁর অন্য কোন স্ত্রীর নিকট যাবেন; এতে আমার খুব হিংসা হলো। তাই আমি তাঁকে অনুস্বরণ করলাম। অতঃপর আমি তাঁকে বাকীউল গারকাদ নামক কবরস্থানে পেলাম। তিনি মুমিন নারী-পুরুষ ও শহীদগনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনঅ করছেন।' (মাছাবাতা বিসসুন্নাহ)

৪. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী ১৫ তারিখের রাত উপস্থিত হয় তখন তোমরা সে রাতে ইবাদাতের দন্ডায়মান হও এবং দিনে রোযা রাখো। কারণ, সে রাতে আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের সাথে সাথে প্রথম আকাশে অবতরণ করেন। অতঃপর বলতে থাকেন, কে আছ ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছ রিযিক প্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দেব। কে আছ বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে বিপদমুক্ত করবো। প্রভাত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এরুপ বলতে থাকেন। (ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা ৯৯, মিশকাত)

হযরত আয়েশা (রা- এর তিনটি হাদীস একই বর্ণনা হতে পারে। আবার ভিন্ন বছরের ঘটনাও হতে পারে। সে যা-ই হোক, উপরিউক্ত প্রথম তিনটি হাদীস পড়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, এই রাতের ফযীলত সম্পর্কে হযরত আয়েশা কিছুই জানতেন না। এই রাতটি যদি ইবাদাতের জন্য কোনো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ রাতই হতো তাহলে হযরত আয়েশা (রা)- এর অজানা থাকবে কেন? তিনি খুঁজে খুঁজে রাসূল (স)-কে গোরস্থানে আবিস্কার করলেন, তিনটি হাদীস থেকেই জানা যায়, রাসূল (স) সে রাতে কবরস্থানে ছিলেন। নিশ্চয়ই কবরস্থানে কোনো ইবাদাতের জায়গা নয়। অতএব, তিনি কবরস্থানে গিয়েছিলেন কবর যিয়ারত এবং মৃত ব্যাক্তিদের জন্য দোআ করতে।

৪নং হাদীস অনুযায়ী প্রমাণিত হচ্ছে যে, এটি একটি নফল ইবাদাত রাত যদিও হাদীসটি সহীহ নয়. মুরসাল। তারপর মহান আল্লাহ রাতের শেষ প্রহরে তথা তাহাজ্জুদের সময় তো প্রতিদিনই ঘোষণা দেন, কে আছ ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছ রিযিক প্রার্থী, আমি তাকে রিযিক দেব। কে আছ বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে বিপদমুক্ত করবো.......। প্রভাত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এরুপ ঘোষণা করতেই থাকেন। উপরিউক্ত হাদীস অনুযায়ী এই রাতে সেই ঘোষণা শুরু হয় সূর্যাস্তের পর থেকে।

৪নং হাদীসটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাতটি নফল ইবাদাতের রাত; দোআ কবুলের রাত। এ রাত সম্পর্কে আরো কয়েকটি হাদীস আছে। যেমন-
ক. রজব মাস শুরু হলে রাসূল (স) এই দোআটি পড়তেন, 'হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।'

খ. রাসূল (স)-কে শাবান মাস ছাড়া বেশি রোযা অন্য কোন মাসে রাখতে দেখিনি (বুখারী)

গ. অন্যান্য মাসের তুলনায় (রমযান ছাড়া) শাবান মাসের রোযা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট অধিক প্রিয় ছিল। (আবু দাঊদ)

ঘ. রাসূল (স) বলেন, শাবানের ১৫ তারিখের পর আর রোযা রেখনা।

উল্লেখ আছে, সর্বপ্রথম ভারতের বিহার অঞ্চলে এই ১৫ শাবান রাতকে শবে বরাত নামকরণ করে খুব জাঁকজমকের সাথে হিন্দুদের দেওয়ালী পূজার অনুকরণে উদযাপন করা হয়। সে দেশে এই নতুন প্রথাটি খুব খ্যাতি লাভ করে। তখন আনাড়ি লোকেরা তা পুঁথি-পুস্তকে লিপিবদ্ধ করে এর প্রশংসায় আজগুবি ফযীলত ও কেচ্ছা-কাহিনী দ্বারা ভরপুর করে দেয়। ভারতের অন্য এলাকায়ও এই প্রথাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর 'মুকসুদুল মুমিনীন' নামক বাংলা কিতাবটি পূর্ব রঙের উপর আরো রঙ চড়িয়ে অতিরঞ্জিত করে ব্যাখ্যা ও কেচ্ছা-কাহিনীতে পূর্ণ করে। তারপর বাংলাদেশের ঘরে ঘরে তা পৌছে দেওয়া হয়। এই কাজের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক যে ইবলিশ তাতে কোন প্রকার সন্দেহ থাকতে পারে না। কারণ ইবলিশথ জানে শরীআতের মধ্যে, ইবাদাতের মধ্যে নতুন কিছু সংযোজন করার নামই বিদ'আত। আর বিদ'আতকারীর পরিণাম জাহান্নাম। প্রচলিত শবে বরাতের করণীয় প্রতিটি কাজউ বিদ'আত ও শিরকে পূর্ণ। যেমন-
ক. ইবাদাতের অংশ হিসেবে হালুয়া- রুটি তৈরি করা। কোনো কোনো এলাকায় এ রোযার নামই রুটির রোযা। রমযানের রোযার নাম আল্লাহর রোযা। কারো কারো মতে, হালুয়া-রুটি না হলে শবে বরাতই হয় না। তারা খুব জোর দিয়েই বলেন, এই তারিখে রাসূল (স) এর দান্দান মোবারক শহীদ হয়েছিল। আর ফাতেমা (রা) তখন পিতার জন্য নরম রুটি ও হালুয়া বানিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। অতএব, এই দিনে হালুয়া-রুটি বানানো ও খাওয়া সুন্নাত। তামাশা আর কাকে বলে! রাসূল (স) এর দাঁত ভেঙে অসুস্থ হয়ে তিনি নরম রুটি খেলেন। এই হালুয়া-রুটি খাওয়াটাই সুন্নাত হয়ে গেল, আর তিনি যে ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য দাঁত ভাঙলেন, রক্ত ঝরালেন তা সুন্নাত হলো না?

খ. অনেক এলাকায় হিন্দুদের দেওয়ালী পূজার অনুকরণে আলোকসজ্জা করা হয়। কল্পনা করা যায়, এটা কত বড় মূর্খতা!

গ. ভিক্ষা করা ইসলামে হারাম। হাদীসে রাসূল (স) বলেছেন, 'যার এক বেলার খাদ্য আছে সে যেন অপরের কাছে হাত না পাতে।' অথচ এই দিনে ভিক্ষাবৃত্তিকে উৎসাহিত করা হয়। আর ঢাকাসহ বড় বড় শহরের মসজিদ ও মাযারগুলোর সামনে রাস্তায় রাস্তায় হাজার হাজার ভিক্ষুকের সমাগম হয়। শুনেছি অনেক স্বাবলম্ভী এদিন সওয়াবের আশায় এ রাতে দু'হাতে দান করে। এমন লোকও আছে ভিক্ষুক নয় কিন্তু এইদিনে শখ করে ভিক্ষা করতে আসে। এতো গেল রুটি-হালুয়ার কথা।

এ রাতের ইবাদাতের মধ্যে ঢুকে গেছে পরিপূর্ণভাবে আরো অনেক বিদ'আত। আমি নমুনা স্বরুপ কয়েকটি উদাহরণ পেশ করছি। এটি হাদীস হিসেবে 'বারো চাঁদের ফযীলত' এবং 'মুকসুদুল মুমিনীন' ব্ইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, '১৫ শাবান সন্ধ্যার পর গোসল করা উচিত।' হযরত রাসূল (স) বলেছেন, যে ব্যাক্তি ১৫ শাবান রাত্রিতে ইবাদাতের নিয়তে গোসল করে, তার জন্য প্রতিটি ফোঁটা পানিতে সাত'শ রাকাত নফল ইবাদাতের সওয়াব লেখা হবে। গোসলের পর দু'রাকাত 'তাহিয়্যাতুল ওযূ' নামাযের প্রতি রাকাআতে সূরা পর একবার আয়াতুল কুরসী ও সূরা ইখলাস তিনবার পড়তে হবে। প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কদর একবার ও সূরা ইখলাস ২৫বার পড়তে হবে। রাসূল (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই নামাযে এভাবে আদায় করবে তার সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। সে সদ্যপ্রসূত শিশুর ন্যায় নিম্পাপ হবে।' এটি আছে বারো চাঁদের ফযীলত এবং মুকসুদুল মুমিনীন এ। আরেকটি বর্ণনা এভাবে আছে 'শবে বরাতে যে ব্যক্তি একশ'রাকাত নামায পড়বে, প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস ১১ বার পড়বে তার জণ্য কিরামান কাতিবীনকে আল্লাহ এরুপ হুকুম দেবেন, আমার এই বান্দার কোনো গুনাহ আমলনামায় লিখো না এবং এক বছর পর্যন্ত শুধু তার নেকীগুলোই লেখা হবে।

আরো বহু ভিত্তিহীন মনগড়া হাদীস এই শবে বরাতকে উদ্দেশ্যে করে তৈরি করা হয়েছে। আসলে এগুলো একটাও হাদীস নয়। অথচ রাসূল (স) বলেছেন, 'আমি যা বলিনি (অর্থাৎ যা হাদীস নয়) তা যদি কেউ আমার নামে প্রচার করে তাহলে সে যেন জাহান্নামে তার ঘর তৈরি করে নিল।' (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

যারা শবে বরাত উপলক্ষে উপরিউক্ত পদ্ধতিতে নামায পড়ে তারা সম্পূর্ণরুপে বিদ'আতকারী। আর যারা বই-কিতাব ও ওয়াজ নসীহতের মাধ্যমে ঐ সব জাল হাদীস প্রচার করে, রাসূল (স,)- এর হাদীস অনুযায়ী তারা তাদের ঘর জাহান্নামের তৈরি করে নিয়েছে। (আসতাগফিরুল্লাহ্)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূল (স)- এর কাছে জিবরাঈল (আ) ্র মাধ্যমে প্রথম যে বাণী পাঠিয়েছিলেন মানুষের জন্য, মানবজাতির জন্য সেই প্রথম কথা, প্রথম ওহী, প্রথম দিক-নির্দেশনা হলো-
'পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে সৃষ্টি করেছনে জমাটবদ্ধ রক্তপিন্ড থেকে। পড়, তোমার রব বড়ই অনুগ্রহশীল, যিনি কলমের সাহয়্যে জ্ঞান দিয়েছেন। মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন, যা সে জানতো না।' (সূরা 'আলাক:১-৫)

আল্লাহর তরফ থেকে উম্মতে মুহাম্মদীর উপর প্রথম নির্দেশ ও প্রথম ফরযই হলো 'পড়ো'। আজ অত্যন্ত বেদনার সাথে বলতে হয়, আমরা পড়াই ছেড়ে দিয়েছি। রাসূল (স) বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে বলেছেন, তোমাদের কাছে দুটি জিনিষ রেখে যাচ্ছি, তা যদি তোমরা আঁকড়ে ধরে রাখো, তাহলে তোমরা পথ ভ্রষ্ট হবে না। তা হলো কুরআন ও আমার সুন্নাহ। তারপরও আমরা কুরআন-হাদীস পড়ি না, অধ্যয়ন করি না, বুঝি না। আর এই সুযোগ্ই ইবলিশ আমাদের দিয়ে ইবাদতের নামে বিদ'আত করাচ্ছে, দীনদারির নামে করাচ্ছে ফাসিকী কাজ।

শাবান মাস যে বরকতময় মাস, এ মাসে রাসূল (স) বেশি করে সিয়াম পালন করতেন, এতে তো কোন সন্দেহ নেই। আমরা এ মাসে বেশি করে নফল রোযা রাখতে পারিন। এই বছেরের জন্য মাসের ১৫তারিখ শেষ রোযা। কারণ রাসূল (স) বলেছেন, তোমরা শাবানের ১৫ তারিখের পর আর নফল রোজা রেখোনা।' এই রাতে নফল সালাত আদায়ও নিঃসন্দেহে সওয়াবের কাজ। আর নফল সাল াত তো প্রতি রাতের জন্য সওয়াবের আমল। কিন্তু তাই বলে মনগড়া নিয়ম-পদ্ধতিতে পড়ার নাম সওয়াব নয়। ফরযের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ার নাম সওয়াব নয়। গোটা মুসলিম উম্মাহর প্রতি আহ্বান করছি- আসুন, আমরা কুরআন ও সুন্নাহ অধ্যয়ন করি; তাহলে ইবাদত ও বিদ'আতের পার্থক্য বুঝতে পারব। নিজেকে সত্যিকার অর্থে মুমিনরুপে গড়ে তুলতে হবে, সর্বপ্রথম বিদ'আতী- ফাসেকী থেকে রক্ষা পেতে হলে, ইবলিসের ধোঁকা থেকে বাঁচতে হলে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই আসুন, আমরা বুঝে, উপলদ্ধি করে কুরআন পড়ি। হাদীস পড়ি এবং সমাজের প্রত্যেক মুসলিমের কাছে পৌঁছে দেই এ দাওয়াত। আমাদের সমাজটা সত্যি সর্বপ্রকার গুনাহ ও কুসস্কারে জর্জরিত হয়ে আছে। সমাজকে শিরক, বিদ'আত, ফাসেকী থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।


--
আমরা সকলেই জানি সালাম দেওয়া সুন্নাত, আর সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। কিন্তু একটি মুসলিম দেশ হিসেবে এখানে অবশ্যই বেশিরভাগই মুসলমান। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখজনক বিষয় হলো কেহ সালাম নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তারপরও সালাম দিচ্ছি সবাইকে আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ!

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
বিদ'আতের বেড়াজালে ইবাদাত- ৯ম কিস্তি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে আজকের পর্ব শুরু করছি। আজকের বিষয় : তাহাজ্জুদ পড়ার নিয়ম।

তাহাজ্জুদ বারো রাকাআত পড়তে হবে। প্রথম রাকাআতে সূরা ফাতিহার সাথে বারো বার সূরা ইখলাস পড়তে হবে। তারপরের রাকাআতে এগারো বার- তারপর দশ বার- এইভাবে নয়-আট-সাত.... শেষ রাকাআতে সূরা ফাতিহার সাথে একবার সূরা ইখলাস পড়তে হবে।

কী আজব ব্যাপার! তাহাজ্জুদ নামাযের এই নিয়ম কে শেখালো এসব হুজুর কিবলাদের? আবার শবে বরাত, শবে মিরাজ, শবে কদরের নামায পড়তে হবে সূরা ফাতিহার সাথে সূরা ইখলাস একশ'বার, অথবা পঞ্চাশ বার কিংবা পঁচিশ বার, তা না পারলে দশবার কমপক্ষে তিনবার সূরা ইখলাস দিয়ে।

এসব পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিদ'আত। সুন্নত পদ্ধতি অন্যান্য সুন্নত নামায যেভাবে পড়া হয় এসব নামাযও সেভাবেই পড়তে হবে। কোনো আলেম, বুজুর্গ বা পীর সাহেবের নামাযের নিয়শ তৈরি করার অধিকার নেই।

আর এদিকে আমরা যারা নিজেদেরকে সাধারণ মুসলমান মনে করি আর আল কুরআন কিংবা সহীহ হাদীস কিছুই যাচাই না করে এই তথাকথিত হুজুরদের মনগড়া নিয়মে দুআ-দরু, যিকির ও নামায পড়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করি। নিজেকে ইবাদাতগুজার মনে কির। অথচ এসব যে ইবাদত হলো না বরং বিদ'আত করলাম তা কয়জনে ভেবে দেখি?
  

No comments