নামের মাঝেই লুকিয়ে আছে আমার পরিচয়
লিখেছেন : মাসুদা সুলতানা রুমী
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই ? আসলে ব্যক্তিগত ব্যস্ততার দরুন খুব একটা বসা হয়না কম্পিউটারে, যার কারণে পূর্বের ধারাবাহিক শেষ করতে পারিনি। ক্ষমা করবেন পূর্বের ধারাবাহিক শেষ না করে নতুন ধারাবাহিকে হাত দেওয়ার জন্য। আর আমার জন্য দোয়া করবেন।
================================
নামের মাঝেই লুকিয়ে আছে আমার পরিচয় - ভূমিকা
================================
আমার এক ছোট্ট বোন। হাসব্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার, নিজেও ইঞ্জিনিয়ার। বোনটিকে সত্যি আমি খুব ভালোবাসি। খুব সম্ভব ২০০৪ সালে তার সাথে আমার পরিচয়। সে অসুস্থ ছিলো। সেলিনা আপার সাথে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। প্রথম দেখাতেই তাকে ভালো লেগেছিল এবং ভালবেসে ফেলেছিলাম। এরপর মাঝে মাঝে ওর বাসায় যেতাম। কি যে খুশী হতো...। কি দিয়ে কি করবে যেনো কুল খুঁজে পেতো না।
দীর্ঘদিন হলো বিয়ে হয়েছে কিন্তু সন্তানাদি নেই। আমাকে প্রায়ই বলতো, "আপা আমার জন্য দু'আ করবেন যেন একটা সন্তান আল্লাহ আমাকে দেন।"
বছর খানেক হলো সেই বোনটির একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। তাই সে আমার কাছে একটা নাম চায় তার কন্যার জন্য। সুন্দর একটা ইসলামী নাম। ওর সব খুবই ভালো, মন- মানসিকতা, আচার- ব্যবহার কি যে ভালো- কিন্তু হিজাব পরে না। তার মানে ইসলামী বিধান মানে না। তাহলে সন্তানের ইসলামী নাম দিয়ে কি হবে তার ? ও যেদিন আমার কাছে ফোন করে ইসলামী নাম চাইল, সেদিনই মনে হলো নাম নিয়ে কিছু একটা লেখার দরকার। আল্লাহ সুবহানাল্লাহ যেনো আমার এই বোনের মতো অন্য সব বোনদের ইসলামী নামের প্রতি প্রীতি এবং সেই সাথে ইসলামী জীবন বিধান মেনে চলার তাওফীক দেন। আমিন, ছুম্মা আমীন।
--
"নামের বড়াই করো না কেউ
নাম দিয়ে কি হয়
নামের মাঝে পাবে না তো
সবার পরিচয়।"
ছোটবেলা এই গানটি শুনতে খুব ভালো লাগতো। মনে হতো সত্যিই তো নাম দিয়ে কি হয় ? রাজা- বাদশা নবাব নামে অনেক ফকির মিসকীন দেখেছি। আবার ফকির আহমেদ, গরীবউল্লাহ, খয়রাত হোসেন নামে অনেক ধনী লোকও দেখেছি।
=========
নামের গুরুত্ব
=========
কিন্তু তারপরও নামের বিরাট একটা গুরুত্ব আছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা সন্তানদের ভালো নাম রাখো।" রাসূল (সা.) অনেক সাহাবীর খারাপ নাম বদলে ভালো নাম রেখেছেন। যেমন বিখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রার নাম ছিলো আব্দুস শামস। যার অর্থ অরুন দাস। কারো মতে আব্দুল ওজ্জা বা ওজ্জার দাস। রাসূল (সা.) তার নাম রাখেন আব্দুর রহমান। হযরত আবু বকর (রা.)ও পূর্বে একটি মুশরিক নামে ছিলো, তা বদলে দিয়ে রাসূল (সা.) তার নাম আব্দুল্লাহ রাখেন যদিও আবু বকর নামেই তিনি অধিক পরিচিত।
আর এক ব্যক্তির নাম ছিলো হাজন। মানে দুঃখ, কষ্ট, অভাব, দুর্ভাগা ইত্যাদি। রাসূল (সা.) বললেন, "তোমার নাম বদলে রাখো সহল। সহল মানে সহজ, সুখ, সচ্ছলতা, সৌভাগ্যবান। নামের একটা তাছির বা প্রভাব আছে। আল্লাহর নামের সাথে আব্দুহ যোগ করে নাম রাখা রাসূল (সা.) পছন্দ করতেন। আর যে কোনো সুন্দর অর্থবোধক নাম তিনি পছন্দ করতেন।
আমরা বাংলাদেশী। বাংলা আমাদের ভাষা। আমরা বাচ্চাদের ডাকনাম বাংলায় রাখতে পারি তবে অবশ্যই একটি ইসলামী নাম থাকা উচিত যা শুনলে মুসলিম বলে চেনা যায়। আর বাংলা ভাষায় যে নামটি রাখবো তা যেনো অবশ্যই অর্থবোধক এবং শিরকমুক্ত হয়।
কোন দেবদেবীর নাম না হয়। ফুলের নাম, নদীর নাম, পাখির নাম কিংবা অন্য কোন সুন্দর অর্থবোধক শব্দ হতে পারে।
আসলে নামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রাসূল (সা.) হাজন নামে এক ব্যক্তির নাম বদলে সহল রেখেছিলেন কিন্তু সেই দূর্ভাগা ব্যক্তি (হাজন শব্দের অর্থও দূর্ভাগা) বলেছিল, "থাক, আমার বাবা মা যখন রেখেছেন এই নামই থাক।" রাসূল (সা.) তাকে আর কিছু বলেননি। পরবর্তীতে তার নাতি বর্ণনা করেছে- "আমাদের জীবন থেকে দুঃখ দুর্দশা কখনো দূর হয়নি।"
আমাদের জাতীয় কবির নাম ছিল দুখু মিয়া। সারাটি জীবন তার দুঃখে দুঃখেই পার হলো। কি দরকার এসব বাজে নাম রাখার ?
মানুষ আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালার সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। অন্যান্য প্রাণীও মানুষের মত খায়, ঘুমায়, পরিশ্রম করে, বিশ্রাম নেয়, বংশ বৃদ্ধি করে।
সন্তান বাৎসল্যও তাদের আছে। তারপরও মানুষের জীবন পদ্ধতির সাথে তাদের জীবন পদ্ধতি আকাশ পাতাল পার্থক্য। এই পার্থক্যের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো, মানুষ তার সন্তানের জন্য সুন্দর একটা নাম রাখে। নাম শুধু পরিচিত চিহ্ন নয়। নামকরণের বেলায় অর্থপূর্ণ এবং শ্রুতিমধুর নাম রাখা প্রত্যেক মুসলিম মা- বাবার কর্তব্য। একটি সুন্দর নাম বাবা- মায়ের নিকট সন্তানের প্রাপ্য অধিকার। বাবা- মা যদি এ অধিকার থেকে সন্তানকে বঞ্চিত করে তাহলে তাদেরকে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন, "হাশরের মাঠে প্রত্যেককে নাম ধরেই ডাকা হবে। তাই কারো নাম যদি ইসলামী রীতি বহির্ভূত, নিরর্থক অথবা দাম্ভিকতাপূর্ণ হয় সেজন্য পিতা- মাতাকেই জবাবদিহি করতে হবে।
--
নামের বিকৃতি
=========
নাম মানুষের অত্যন্ত প্রিয় একটা জিনিস। আমার মনে হয় প্রত্যেকটি মানুষ তার নামকে ভালোবাসে তাই কারো নামের বিকৃতি করা উচিত না। অন্তরযামী আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা তিনি বান্দার ভালো লাগা, মন্দ লাগা জানেন তাই বলেছেন, "তোমরা কাউকে খারাপ নামে ডেকো না।"
আল্লাহ যে কাজ করার আদেশ দেন তা পালন করা ফরয। আর যদি তিনি নিষেধ করেন তা করা হারাম। তা করলে কবীরা গুনাহ হবে। কবীরা গুনাহের গুরুত্ব বুঝতে হবে। বিভিন্ন ভালো কাজের মাধ্যমে ছগীরা (ছোট) গুনাহ মাফ হয় কিন্তু কবীরা গুনাহ মাফ হয় না। কবীরা গুনাহ থেকে মাফ পেতে হলে সেই গুনাহ থেকে বিশেষভাবে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে, তওবা করে, আর কখনো করবো না বলে কান্নাকাটি করতে হবে। অতএব কাউকে বিকৃত নামে ডাকাকে আমরা যতই তুচ্ছ মনে করি না কেন আসলে বিষয়টি তুচ্ছ না।
নাম বিকৃতিকারীগণ নামকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যে, সেই বিকৃত শব্দ আসল শব্দ থেকে আসল নাম খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। আমাদের বাসার পাশে বাস করতো ঘ্যানা শেখের মেয়ে কুনু। শুনলে অবাক হবেন কুনুর সঠিক নাম কুলসুম, আর ঘ্যানা শেখের নাম আনোয়ার শেখ। কি করে যে আনোয়ার শেখ ঘ্যানা শেখ হলো তা আবিস্কার করতে বোধহয় প্রত্নতত্ত্ববিদ লাগবে। নাম বিকৃতি করা যেনো একটা স্বভাবে পরিণত হয়েছে এক শ্রেণীর মানুষের। মতিকে মইত্যা, খলীলকে খইল্যা, জলিলকে জইল্যা ইত্যাদি বলে।
যা হোক আমাদের অনেকের মধ্যেই কম বেশি করে নাম বিকৃতি করার অপতৎপরতা আছে। আমরা যেনো এই অপতৎপরতা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারি।
--
না বুঝে নাম রাখা
==========
এক বৈঠকে নতুন মুখ দেখে জিজ্ঞেস করলাম, "আপা আপনার নাম কী ? সেই আপা খুব গম্ভীর স্বরে উত্তর দিলেন, "আমার নাম কা'য়াস ফিম্-মাকুল" সূরা ফিলের শেষ আয়াত। আর একবার এক ভদ্র মহিলা গর্বের সাথে বলেছিলেন তার নাম "আল- ক্বারিয়া"। আর একজন তার ছেলের নাম রেখেছেন খিঞ্জির আহমেদ, কেউ রাখে 'নার' জাহেলা। আবার অংহকারের সাথে বলে এই সব শব্দ আল কুরআন থেকে নেওয়া।
কা'য়াস ফিম্-মাকুল অর্থ- পশুর চিবানো ভূষি। আল- ক্বারিয়া অর্থ- চরম দুর্ঘটনা। খিঞ্জির মানে শুকর। নার- আগুন। জাহান্নাম বুঝাতে 'নার' ব্যবহার করা হয়েছে আল-কুরআনে। জাহেলা মানে চরম মূর্খ। এমনি আরও অনেক শব্দ আল-কুরআনে আছে যার কোন মানে না বুঝেই বাচ্চাদের নাম রাখে আর মনে মনে খুশি হয় এই ভেবে কুরআন থেকে নাম রেখেছি।
====================
বাবার নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা
====================
আবদুল আলীম মানে আলীমের বান্দা- গোলাম বা দাস। আলীম আল্লাহ পাকের একটি নাম। তাহলে আসগর আলীমের অর্থ কি হতে পারে ? আসগর অর্থ ছোট আবার বাবার নাম আব্দুর রহমান, ছেলের নাম দুলাল রহমান। কি হলো এইবার ? আব্দুর রহমান মানে রহমানের দাস, আর দুলাল রহমান মানে রহমানের পুত্র। আসতাগফিরুল্লাহ। আসল কথা হচ্ছে আমরা যে নামই রাখি না কেন, যেনো জেনে বুঝে রাখি।
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই ? আসলে ব্যক্তিগত ব্যস্ততার দরুন খুব একটা বসা হয়না কম্পিউটারে, যার কারণে পূর্বের ধারাবাহিক শেষ করতে পারিনি। ক্ষমা করবেন পূর্বের ধারাবাহিক শেষ না করে নতুন ধারাবাহিকে হাত দেওয়ার জন্য। আর আমার জন্য দোয়া করবেন।
================================
নামের মাঝেই লুকিয়ে আছে আমার পরিচয় - ভূমিকা
================================
আমার এক ছোট্ট বোন। হাসব্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার, নিজেও ইঞ্জিনিয়ার। বোনটিকে সত্যি আমি খুব ভালোবাসি। খুব সম্ভব ২০০৪ সালে তার সাথে আমার পরিচয়। সে অসুস্থ ছিলো। সেলিনা আপার সাথে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। প্রথম দেখাতেই তাকে ভালো লেগেছিল এবং ভালবেসে ফেলেছিলাম। এরপর মাঝে মাঝে ওর বাসায় যেতাম। কি যে খুশী হতো...। কি দিয়ে কি করবে যেনো কুল খুঁজে পেতো না।
দীর্ঘদিন হলো বিয়ে হয়েছে কিন্তু সন্তানাদি নেই। আমাকে প্রায়ই বলতো, "আপা আমার জন্য দু'আ করবেন যেন একটা সন্তান আল্লাহ আমাকে দেন।"
বছর খানেক হলো সেই বোনটির একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। তাই সে আমার কাছে একটা নাম চায় তার কন্যার জন্য। সুন্দর একটা ইসলামী নাম। ওর সব খুবই ভালো, মন- মানসিকতা, আচার- ব্যবহার কি যে ভালো- কিন্তু হিজাব পরে না। তার মানে ইসলামী বিধান মানে না। তাহলে সন্তানের ইসলামী নাম দিয়ে কি হবে তার ? ও যেদিন আমার কাছে ফোন করে ইসলামী নাম চাইল, সেদিনই মনে হলো নাম নিয়ে কিছু একটা লেখার দরকার। আল্লাহ সুবহানাল্লাহ যেনো আমার এই বোনের মতো অন্য সব বোনদের ইসলামী নামের প্রতি প্রীতি এবং সেই সাথে ইসলামী জীবন বিধান মেনে চলার তাওফীক দেন। আমিন, ছুম্মা আমীন।
--
"নামের বড়াই করো না কেউ
নাম দিয়ে কি হয়
নামের মাঝে পাবে না তো
সবার পরিচয়।"
ছোটবেলা এই গানটি শুনতে খুব ভালো লাগতো। মনে হতো সত্যিই তো নাম দিয়ে কি হয় ? রাজা- বাদশা নবাব নামে অনেক ফকির মিসকীন দেখেছি। আবার ফকির আহমেদ, গরীবউল্লাহ, খয়রাত হোসেন নামে অনেক ধনী লোকও দেখেছি।
=========
নামের গুরুত্ব
=========
কিন্তু তারপরও নামের বিরাট একটা গুরুত্ব আছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা সন্তানদের ভালো নাম রাখো।" রাসূল (সা.) অনেক সাহাবীর খারাপ নাম বদলে ভালো নাম রেখেছেন। যেমন বিখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রার নাম ছিলো আব্দুস শামস। যার অর্থ অরুন দাস। কারো মতে আব্দুল ওজ্জা বা ওজ্জার দাস। রাসূল (সা.) তার নাম রাখেন আব্দুর রহমান। হযরত আবু বকর (রা.)ও পূর্বে একটি মুশরিক নামে ছিলো, তা বদলে দিয়ে রাসূল (সা.) তার নাম আব্দুল্লাহ রাখেন যদিও আবু বকর নামেই তিনি অধিক পরিচিত।
আর এক ব্যক্তির নাম ছিলো হাজন। মানে দুঃখ, কষ্ট, অভাব, দুর্ভাগা ইত্যাদি। রাসূল (সা.) বললেন, "তোমার নাম বদলে রাখো সহল। সহল মানে সহজ, সুখ, সচ্ছলতা, সৌভাগ্যবান। নামের একটা তাছির বা প্রভাব আছে। আল্লাহর নামের সাথে আব্দুহ যোগ করে নাম রাখা রাসূল (সা.) পছন্দ করতেন। আর যে কোনো সুন্দর অর্থবোধক নাম তিনি পছন্দ করতেন।
আমরা বাংলাদেশী। বাংলা আমাদের ভাষা। আমরা বাচ্চাদের ডাকনাম বাংলায় রাখতে পারি তবে অবশ্যই একটি ইসলামী নাম থাকা উচিত যা শুনলে মুসলিম বলে চেনা যায়। আর বাংলা ভাষায় যে নামটি রাখবো তা যেনো অবশ্যই অর্থবোধক এবং শিরকমুক্ত হয়।
কোন দেবদেবীর নাম না হয়। ফুলের নাম, নদীর নাম, পাখির নাম কিংবা অন্য কোন সুন্দর অর্থবোধক শব্দ হতে পারে।
আসলে নামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রাসূল (সা.) হাজন নামে এক ব্যক্তির নাম বদলে সহল রেখেছিলেন কিন্তু সেই দূর্ভাগা ব্যক্তি (হাজন শব্দের অর্থও দূর্ভাগা) বলেছিল, "থাক, আমার বাবা মা যখন রেখেছেন এই নামই থাক।" রাসূল (সা.) তাকে আর কিছু বলেননি। পরবর্তীতে তার নাতি বর্ণনা করেছে- "আমাদের জীবন থেকে দুঃখ দুর্দশা কখনো দূর হয়নি।"
আমাদের জাতীয় কবির নাম ছিল দুখু মিয়া। সারাটি জীবন তার দুঃখে দুঃখেই পার হলো। কি দরকার এসব বাজে নাম রাখার ?
মানুষ আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালার সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ। অন্যান্য প্রাণীও মানুষের মত খায়, ঘুমায়, পরিশ্রম করে, বিশ্রাম নেয়, বংশ বৃদ্ধি করে।
সন্তান বাৎসল্যও তাদের আছে। তারপরও মানুষের জীবন পদ্ধতির সাথে তাদের জীবন পদ্ধতি আকাশ পাতাল পার্থক্য। এই পার্থক্যের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো, মানুষ তার সন্তানের জন্য সুন্দর একটা নাম রাখে। নাম শুধু পরিচিত চিহ্ন নয়। নামকরণের বেলায় অর্থপূর্ণ এবং শ্রুতিমধুর নাম রাখা প্রত্যেক মুসলিম মা- বাবার কর্তব্য। একটি সুন্দর নাম বাবা- মায়ের নিকট সন্তানের প্রাপ্য অধিকার। বাবা- মা যদি এ অধিকার থেকে সন্তানকে বঞ্চিত করে তাহলে তাদেরকে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন, "হাশরের মাঠে প্রত্যেককে নাম ধরেই ডাকা হবে। তাই কারো নাম যদি ইসলামী রীতি বহির্ভূত, নিরর্থক অথবা দাম্ভিকতাপূর্ণ হয় সেজন্য পিতা- মাতাকেই জবাবদিহি করতে হবে।
--
নামের বিকৃতি
=========
নাম মানুষের অত্যন্ত প্রিয় একটা জিনিস। আমার মনে হয় প্রত্যেকটি মানুষ তার নামকে ভালোবাসে তাই কারো নামের বিকৃতি করা উচিত না। অন্তরযামী আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা তিনি বান্দার ভালো লাগা, মন্দ লাগা জানেন তাই বলেছেন, "তোমরা কাউকে খারাপ নামে ডেকো না।"
আল্লাহ যে কাজ করার আদেশ দেন তা পালন করা ফরয। আর যদি তিনি নিষেধ করেন তা করা হারাম। তা করলে কবীরা গুনাহ হবে। কবীরা গুনাহের গুরুত্ব বুঝতে হবে। বিভিন্ন ভালো কাজের মাধ্যমে ছগীরা (ছোট) গুনাহ মাফ হয় কিন্তু কবীরা গুনাহ মাফ হয় না। কবীরা গুনাহ থেকে মাফ পেতে হলে সেই গুনাহ থেকে বিশেষভাবে আল্লাহর কাছে মাফ চেয়ে, তওবা করে, আর কখনো করবো না বলে কান্নাকাটি করতে হবে। অতএব কাউকে বিকৃত নামে ডাকাকে আমরা যতই তুচ্ছ মনে করি না কেন আসলে বিষয়টি তুচ্ছ না।
নাম বিকৃতিকারীগণ নামকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় যে, সেই বিকৃত শব্দ আসল শব্দ থেকে আসল নাম খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। আমাদের বাসার পাশে বাস করতো ঘ্যানা শেখের মেয়ে কুনু। শুনলে অবাক হবেন কুনুর সঠিক নাম কুলসুম, আর ঘ্যানা শেখের নাম আনোয়ার শেখ। কি করে যে আনোয়ার শেখ ঘ্যানা শেখ হলো তা আবিস্কার করতে বোধহয় প্রত্নতত্ত্ববিদ লাগবে। নাম বিকৃতি করা যেনো একটা স্বভাবে পরিণত হয়েছে এক শ্রেণীর মানুষের। মতিকে মইত্যা, খলীলকে খইল্যা, জলিলকে জইল্যা ইত্যাদি বলে।
যা হোক আমাদের অনেকের মধ্যেই কম বেশি করে নাম বিকৃতি করার অপতৎপরতা আছে। আমরা যেনো এই অপতৎপরতা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে পারি।
--
না বুঝে নাম রাখা
==========
এক বৈঠকে নতুন মুখ দেখে জিজ্ঞেস করলাম, "আপা আপনার নাম কী ? সেই আপা খুব গম্ভীর স্বরে উত্তর দিলেন, "আমার নাম কা'য়াস ফিম্-মাকুল" সূরা ফিলের শেষ আয়াত। আর একবার এক ভদ্র মহিলা গর্বের সাথে বলেছিলেন তার নাম "আল- ক্বারিয়া"। আর একজন তার ছেলের নাম রেখেছেন খিঞ্জির আহমেদ, কেউ রাখে 'নার' জাহেলা। আবার অংহকারের সাথে বলে এই সব শব্দ আল কুরআন থেকে নেওয়া।
কা'য়াস ফিম্-মাকুল অর্থ- পশুর চিবানো ভূষি। আল- ক্বারিয়া অর্থ- চরম দুর্ঘটনা। খিঞ্জির মানে শুকর। নার- আগুন। জাহান্নাম বুঝাতে 'নার' ব্যবহার করা হয়েছে আল-কুরআনে। জাহেলা মানে চরম মূর্খ। এমনি আরও অনেক শব্দ আল-কুরআনে আছে যার কোন মানে না বুঝেই বাচ্চাদের নাম রাখে আর মনে মনে খুশি হয় এই ভেবে কুরআন থেকে নাম রেখেছি।
====================
বাবার নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা
====================
আবদুল আলীম মানে আলীমের বান্দা- গোলাম বা দাস। আলীম আল্লাহ পাকের একটি নাম। তাহলে আসগর আলীমের অর্থ কি হতে পারে ? আসগর অর্থ ছোট আবার বাবার নাম আব্দুর রহমান, ছেলের নাম দুলাল রহমান। কি হলো এইবার ? আব্দুর রহমান মানে রহমানের দাস, আর দুলাল রহমান মানে রহমানের পুত্র। আসতাগফিরুল্লাহ। আসল কথা হচ্ছে আমরা যে নামই রাখি না কেন, যেনো জেনে বুঝে রাখি।
No comments
Post a Comment